• প্রচ্ছদ » » ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কোন মতবাদের ভিত্তিতে এবং কোন কোন মহান বিদ্বানের হাত ধরে জন্ম নিয়েছিলো?


ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কোন মতবাদের ভিত্তিতে এবং কোন কোন মহান বিদ্বানের হাত ধরে জন্ম নিয়েছিলো?

আমাদের নতুন সময় : 05/12/2021

কাজী হানিয়াম মারিয়া

 

১৯০৫ সালের ইংরেজ সরকারের নেওয়া বঙ্গভঙ্গের আদেশ বাংলার মুসলিম অভিজাত সমাজ সাদরে গ্রহণ করে, কারণ এর মাধ্যমে তৎকালীন অনগ্রসর মুসলিম সমাজে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ হবে বলে তারা মনে করেছিলেন। কিন্তু সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ এটিকে বাঙালি জাতিসত্তার ওপর একটি আঘাত বিবেচনা করে এর বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলেন। যার ফলশ্রুতিতে ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গভঙ্গ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ১৯১২ সালের জানুয়ারিতে ভাইসরয় লর্ড হার্ডিনেজর ঢাকা সফরের সময় আবার অভিজাত সমাজ নিজস্ব স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা নেন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভাইসরয়ের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। অভিজাত সমাজের প্রতিনিধিদলে ছিলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, নবাব আলী চৌধুরী এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। মুসলিম সমাজের উন্নতির জন্য যে শিক্ষা অপরিহার্য সেটা ভারত সচিবকে বোঝাতে সচেষ্ট হন। ফলশ্রুতিতে একমাসের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সরকারি ঘোষণা চলে আসে। যদিও এই ঘোষণার বিরুদ্ধেও চলে তুমুল আন্দোলন। তারপরও এপ্রিল মাসে পত্র মারফত বিশ্ববিদ্যালয় খোলার নোটিশ চলে আসে বাংলা সরকারের কাছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রস্তাবনায় প্রথম থেকেই এটিকে আবাসিক বলা হয়েছে এবং মুসলিম ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ইসলামিক বিষয় পড়ানোর বিভাগ খোলার প্রস্তাব রাখা হয়। একই বছরের মে মাসে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নাথান কমিটি গঠন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রাথমিক নিয়মানুবলী এবং অবকাঠামো প্রস্তাব করার জন্য। যদিও পরবর্তীতে নাথান কমিটির প্রস্তাবিত রিপোর্ট অনেক পরিবর্তন হয়। এর মাঝে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্পের অগ্রগতি থেমে যায়।
১৯১৭ সালের মার্চ মাসে আবার এ কে ফজলুল হকের উদ্যোগে নবাব আলী চৌধুরী ভাইসরয় বরাবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। এ বছরই মাইকেল স্যাডলারের নেতৃত্বে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন গঠন করা হয় এবং এই কমিশনই ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পক্ষে জোরালো যুক্তি দেয়। নাথান কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান হবে যেটা স্যাডলার কমিশন বাতিল করে দেন। কারণ তৎকালীন জ্ঞানী ব্যক্তিদের মতে বিশ্ববিদ্যালয়কে হতে হবে সরকারি প্রভাবমুক্ত। কারণ সরকারি প্রভাবমুক্ত স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠানেই ছাত্রছাত্রীদের মেধা বিকাশ এবং উন্নত চরিত্র গঠন হয় বলেই স্যাডলার কমিশন বিশ্বাস করতেন। স্যাডলার কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯২০ সালের মার্চ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুমোদন লাভ করে। এই কমিশনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন স্যার ফিলিপ হার্টগ। যিনি শত বছর আগেই বুঝতে পেরেছিলেন সরকারি হস্তক্ষেপ মুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা।
১৯২০ সালের ১ ডিসেম্বর স্যার ফিলিপ হার্টগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। বাংলা সরকারের একটি উপদেষ্টা কমিটি নিয়োগ দিয়েছিলো তাঁকে সাহায্য করার জন্য। সেই কমিটির সাহায্যে তিনি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া শুরু করেন যার ফলশ্রুতিতে ১৯২১ সালের ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম অধিবেশনে এই মহাপুরুষ বলেছিলেন যে, যদিও বিশ্ববিদ্যালয়টি মুসলিমদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ, তবুও কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটিকে গড়ে তোলার কোন ইচ্ছাই আমাদের কমিশনের ছিলো না। ওই সময়ে এরকম অসম্প্রদায়িক বক্তব্য দেওয়ার মতো সাহসী লোক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন। আজ শত বছর পরে এই মহান শিক্ষককে আমার শ্রদ্ধা জানাই, যিনি শিক্ষাদীক্ষা এবং প্রজ্ঞায় তার সময় থেকে অনেক এগিয়ে ছিলেন।
অফ-টপিক: কোনো ইতিহাস বলার জন্য এই স্ট্যাটস নয়। শুধু নিজেকে স্মরণ করানোর জন্য যে আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়টি কোন মতবাদের ভিত্তিতে এবং কোন কোন মহান বিদ্বানের হাত ধরে জন্ম নিয়েছিলো। যদি তাদের জীবনদর্শন থেকে কিছুটা শেখা যায়। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]