• প্রচ্ছদ » » পরিবহন সেক্টরের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুর্বৃত্তায়নও একটা ইন্ডাস্ট্রি!


পরিবহন সেক্টরের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুর্বৃত্তায়নও একটা ইন্ডাস্ট্রি!

আমাদের নতুন সময় : 05/12/2021

জিয়া আরেফিন আজাদ : পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে আমাদের শিশু সন্তানদের মাঠে নামিয়ে আমরা খুবই অবিবেচকের মতো কাজ করেছি। পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনকে ধন্যবাদ। শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে তারা এই মুহূর্তের উত্তেজনা কিছুটা লাঘব করেছেন। একজন যাত্রী যখন কোনো গণপরিবহনে ভ্রমণ করেন তখন তিনি সেই যানবাহনের শ্রমিকদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তাই যাত্রী ও শ্রমিকের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক ভীষণ দরকারী। সাম্প্রতিককালে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে দুর্বৃত্তায়ন ও উগ্রতা মারাত্মক বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা অবশ্যই নিরসন করতে হবে। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে আমরা যেন শ্রেণিবিদ্বেষকে প্রশ্রয় না দিই। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না বছরের পর বছর এই শ্রমিকরা আপনার-আমার মতো ভদ্রলোক যাত্রীদের কাছে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ব্যবহার পেয়েছে। আজকে সংঘশক্তির জোরে তারা যে উগ্রতা-উচ্ছৃঙ্খলতা দেখাচ্ছে তার পেছনে দীর্ঘদিনের অপমান-অবজ্ঞার প্রতিক্রিয়া রয়েছে, সেটা অস্বীকার করা যাবে না। দুঃখজনক বিষয় হলো, অনগ্রসর শ্রেণি যখন ভায়োলেন্ট হয়ে উঠে তখন তার সবচেয়ে কদর্য চেহারাটাই আমরা দেখতে পাই। আর এর শিকার হয় সমাজের দুর্বল অংশটি। সেই কারণে ইদানীং নারী বা অল্পবয়সী যাত্রীদের জন্য গণপরিবহনে ভ্রমণ একটা আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টাকে সিরিয়াসলি নিয়ে আমাদের এর স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে। কোনো একটা গোষ্ঠীকে দানবীয়ভাবে উপস্থাপন করলে এই সমস্যা জটিল আকার নেবে। মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী- সকল পক্ষকে আস্থায় নিয়ে সমস্যাগুলো দূর করতে হবে।
পরিবহন সেক্টরের মতোই আরেকটি উদ্বেগের জায়গা হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় পক্ষই আন্দোলন করছেন। সংবাদ মাধ্যম ও অন্যরাও সেই আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন জানাচ্ছেন। আমার মনে হয় এখানেও আমরা কিছুটা ভুল করছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি ছাত্র সংগঠনের দুর্বৃত্তায়ন নতুন কিছু নয়। এর বাইরে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান থাকে তবে সেটাকে ব্যতিক্রম বলতে হবে। শিক্ষার স্বার্থে, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এই দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ হতে হবে। অন্যায়ের প্রতিবাদের জন্য একজন শিক্ষকের মৃত্যুকে উপলক্ষ করতে হবে কেন? যেকোনো কারণেই একজন ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাক হতে পারে? মানসিক নির্যাতনের সঙ্গে একে যুক্ত করলে প্রতিদিন যে অসংখ্য নিপীড়ন চলছে সেটাকে লঘু করা হয়। আমরা যারা প্রতিনিয়ত নানারকম শারীরিক ও মানসিক পীড়নের শিকার হচ্ছি, তাদের কি তা হলে মরে গিয়েই অসম্মানের প্রমাণ দিতে হবে?
পরিবহন সেক্টরের মতোই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুর্বৃত্তায়নও একটা ইন্ডাস্ট্রি। এই ইন্ডাস্ট্রিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়েই ভিকটিম। আবার উভয় শ্রেণির মধ্যেই পীড়নকারী আছেন যারা পরস্পর শুধু মিত্রই নয়, একজনের অস্তিত্ব অন্যের ওপর নির্ভরশীল। দুর্বৃত্তায়নের এই শৃঙ্খল ভাঙতে হলে আন্দোলনের নৈতিক জায়গাটা পরিষ্কার করতে হবে। আজকে যারা ভিকটিম হিসেবে আন্দোলন করছেন গতকাল তাদের অনেকেই হয়তো পীড়নকারীদের দলে ছিলো। আগামীকাল আবারও তাদের ভূমিকা পরিবর্তন হবে, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। যদি এটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয় তা হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কটা সঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। আমি আশা করবো, খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সেই মৌলিক জায়গায় দৃষ্টি দেবেন। একজন শিক্ষকের মৃত্যুর শোককে কাজে লাগিয়ে একটি নির্দিষ্ট অপরাধের বিচার দাবি করার মধ্যে কোথাও যেন একটা ফাঁক আছে। তরধ অৎবভরহ অুধফ-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]