বাংলাদেশে শিক্ষার মান

আমাদের নতুন সময় : 05/12/2021

মঈন চৌধুরী

একজন ভূ-প্রকৌশল উপদেষ্টা হিসেবে বিদেশে কাজ করতে গিয়ে সবসময় আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশে শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানের নয়, যার ফলে বিদেশে কেবল শ্রমিক শ্রেণির বাংলাদেশিদেরই দেখা যায় বেশি। বিষয়ভিত্তিক ভালো জ্ঞান না থাকায় আর ভালো ইংরেজি না জানার ফলে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ আরও অনেক দেশের নার্স, কম্পিউটার অপারেটর, গ্রাফিক ডিজাইনার, প্লাম্বার, ইলেক্ট্রেশিয়ান খুব একটা দেখা যায় না। টেকনিক্যাল বিষয়ভিত্তিক যে চাকরির বাজার, তা মোটামুটিভাবে ভারত আর ফিলিপাইনের দখলে, কারণ তাদের টেকনিক্যাল ট্রেডের লোকজন ইংরেজি জানে ভালো। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলতে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এনএসইউ, এআইইউবি, ব্র্যাকের মেধাবী ছাত্ররা মোটামুটি ভালো অবস্থায় থাকলেও, অন্য ছাত্রদের আমি বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে দেখেছি। ভারত, ফিলিপাইন, চীন ও এশিয়ান দেশগুলোর ছাত্রদের সঙ্গে বাংলাদেশের ছাত্রদের তুলনা করলে মনে হয় আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছু একটা গণ্ডগোল আছে। গণ্ডগোল যদি থেকেই থাকে তবে তা কারিক্যুলামকেন্দ্রিক নাকি উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব, তা নির্ধারণ করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমার মনে হয় আমাদের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য আমাদের শিক্ষা কারিক্যুলামকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। আমাদের দেশে ইংরেজি, গণিত আর বিজ্ঞান শিক্ষকের অভাব যে আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের ক্লাসে গিয়ে ইংরেজির শিক্ষক যদি বলেন ‘ইট ইজ হেথেটিক এন্ড হিকুইলিইয়ার দ্যাট ইউ কেন নট টক ইন ইংলিশ।’ তবে ইংরেজি শেখার কী যে হবে তা তো বোঝাই যায়। ফরিদপুরে পাংশায় এক স্কুলে গিয়ে আমি নিজে দেখেছি যে স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষকের জ্ঞান ক্লাস নাইনে রয়ে গেছে, অথচ তিনি পড়াচ্ছেন ক্লাস টেনের পদার্থবিদ্যা। এমন হলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কোনোদিনই মানসম্পন্ন হবে না। এবার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কিছু বলি। শোনা যায় চার-পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকিগুলো আসলে খাঁটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। পরীক্ষায় জিপিএ তিনের নিচে গেলে যেহেতু ছাত্ররা রাগ করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যায়, সেহেতু ওইখানে একটা অলিখিত নিয়ম চালু আছে। নিয়মটি হলো, পরীক্ষায় যাই লিখুক না কেন, কোনো ছাত্রের জিপিএ তিনের নিচে আনা যাবে না, কারণ তাতে ব্যবসা নষ্ট হয়। এই যদি হয় আমাদের উচ্চ শিক্ষার অবস্থা, তবে শিক্ষার মান কোন স্তরে আছে তা আনুমান করতে অসুবিধা হয় না। যদি খুব তাড়াতাড়ি আমাদের দেশে শিক্ষার মান উন্নয়নের ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে অশিক্ষা, কুশিক্ষা, মাস্তানি, মাদক ইত্যাদি আমাদের আগামী প্রজন্মকে গ্রাস করে দেশের ভবিষ্যৎকে অন্ধকার করে ফেলবে। গধুববহ ঈযড়ফিযঁৎু-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]