• প্রচ্ছদ » » মিশন এক্সট্রিম : দর্শকানুভূতি


মিশন এক্সট্রিম : দর্শকানুভূতি

আমাদের নতুন সময় : 05/12/2021

মাশরুফ হোসেন

শুরুতেই দুটো জিনিস বলে নিচ্ছি: [এক] আমি কোনো পেশাদার মুভি বোদ্ধা নই, একজন অ্যামেচার দর্শক মাত্র। কাজেই এই রিভিউটিকে মুভি রিভিউ না বলে মুভিটি দেখে আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি কী রকম সেটার প্রকাশ বলা যেতে পারে। [দুই] এটি পুলিশের মুভি, আমি নিজে এই পেশায় আছি। এছাড়া, এ মুভিতে কাজ করেছেন এরকম অনেক মানুষ আমার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত এবং অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কাজেই সজ্ঞানে বা অজ্ঞানে মুভিটির প্রতি আমার পক্ষপাত থাকবেই। মিথ্যা নিউট্রালিটির ছল না ধরে বরং সততার সঙ্গে এই পক্ষপাতিত্বের কথা শুরুতেই স্বীকার করে নিচ্ছি।
[এক] এই মুভিটা দেখতে কেন হলে যাবেন? যদি এককথায় উত্তর দিতে হয় তাহলে সাতটা শব্দ বলবো: আরেফিন শুভ, আরেফিন শুভ এবং আরেফিন শুভ। বাংলা সিনেমার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এরকম সুদর্শন ও সুঠামদেহী নায়ক আর একটাও আসেননি (ক্লোজ কম্পিটিশন হবে এবিএম সুমন ভাইয়ের সঙ্গে, কিন্তু সুমন ভাই এখনো মেইনস্ট্রিম নায়ক হয়ে ওঠার সুযোগ পাননি, আশা করি দ্রুতই হয়ে যাবে)। স্রেফ ডেডিকেশন আর পরিশ্রম দিয়ে আমাদের দেশের একজন অভিনেতা নিজেকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন, এটা আরেফিন শুভ দেখিয়েছেন। তাঁর স্ক্রিন প্রেজেন্স যেকোনো ভারতীয় এমনকি হলিউড সিনেমার নায়কদের ইংরেজিতে যেটা বলে- রিষষ মরাব ধ ৎঁহ ভড়ৎ ঃযবরৎ সড়হবু. আগে বলেছিলাম কথাটা, আবারও বলি- যদি উপযুক্ত পরিবেশ পেতেন, আরেফিন শুভ বলিউডের ‘ওয়ার’ সিনেমায় হৃত্বিকের স্ক্রিন প্রেজেন্সকে ধরে ফেলতেন।
[দুই] ইরা চরিত্রে অভিনয়কারী সাদিয়া নাবিলাকে দেখে বহু নারী পুলিশে যোগ দিতে উৎসাহী হবেন, এটা নিশ্চিত। অত্যন্ত স্মার্ট এবং আলগা ন্যাকামিবিহীন, সাবলীল অভিনয় ছিলো তাঁর। আমাদের সমাজে একজন পেশাজীবী নারীকে কী ধরনের সামাজিক চাপের ভেতর দিয়ে যেতে হয়, এটা তাঁর চরিত্রের মাধ্যমে ছোট করে হলেও ফুটে উঠেছে। সত্যি বলতে কী, নায়িকার তুলনায় তাঁর চরিত্রটি অনেক বেশি বিকশিত হয়েছে। [তিন] এই সিনেমার অত্যন্ত শক্তিশালী একটা দিক হচ্ছে ছোট ছোট পার্শ্ব চরিত্রগুলোর একেবারে বাস্তবসম্মত অভিনয়। যারা নামকরা অভিনেতা তারা তো আছেনই (দীপু ইমাম ভাই, ইরেশ জাকের, ফজলুর রহমান বাবু ইত্যাদি), নবীন যেসব অভিনেতা জঙ্গিদের অভিনয় করেছেন (নাজমুস সাকিব ভাইসহ অন্যরা), তারাও একেবারে মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে নিজেদের কাজটা করেছেন। [চার] আমি মুভির টেকনিক্যাল দিকগুলো সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ- শুধু এটুকু বলতে পারি, সিনেমাটোগ্রাফি ভালো লেগেছে, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দারুণ লেগেছে, বিশেষ করে সাসপেন্স দৃশ্যগুলোর সময়ে মিউজিক। এককথায় বলতে গেলে, হলে গিয়ে মুভিটা ‘দেখে এবং শুনে’ আনন্দ পেয়েছি।
[পাঁচ] ‘ঢাকা এ্যাটাক’ এর সঙ্গে তুলনা আসবেই সন্দেহ নেই। আমার কাছে এই মুভিটাতে লুপহোলের সংখ্যা ঢাকা এ্যাটাকের চাইতে অনেক কম বলে মনে হয়েছে, বিশেষ করে অপ্রয়োজনীয় চরিত্র ও ঘটনা ঢাকা এ্যাটাকের তুলনায় অনেক কম ছিলো। এটা অবশ্য স্বাভাবিক, দ্বিতীয় ছবিতে ম্যাচিউরিটি প্রথমটির চাইতে বেশি থাকে অভিজ্ঞতার কারণে।
[ছয়] এ মুভির স্ক্রিপ্ট অ্যাকশন থ্রিলার হিসেবে অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক, আফগান যুদ্ধফেরত বাংলাদেশের নাগরিকদের সঙ্গে লিঙ্ক করে বর্তমান সময়ের জঙ্গিবাদ নিয়ে বাংলাদেশে এরকম কমার্শিয়াল ও মেইনস্ট্রিম সিনেমা সম্ভবত হয়নি। সংলাপ লেখায় সূক্ষ্ম মুন্সিয়ানা চোখ এড়ায়নি, জঙ্গিরা যেসব শব্দ ব্যবহার করতো, লেখক ঠিক সেসব শব্দই অভিনেতাদের মুখে বসিয়েছেন। [সাত] সত্যি বলতে কী, এ সিনেমার ক্লাইম্যেক্স নিয়ে আমি খানিকটা আশাহত হয়েছি। যদিও জানতাম যে এর সেকেন্ড পার্ট আসবে, তাও সিনেমার শেষে বিশাল একটা ধামাকা আশা করেছিলাম, তার তুলনায় কমই লেগেছে যদি নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করি। এই জায়গাতে পরিচালকদের জন্য খুব বড় একটা চ্যালেঞ্জ পরবর্তী পর্বে যদি এই বিশাল ধামাকা দিতে না পারেন, প্রথম পর্বের বিল্ট আপ যদি বিফলে যায়- খুব বাজে একটা ব্যাপার হবে সেটা। প্রযোজক এবং পরিচালক ইয়া বিশাল একটা রিস্ক নিয়েছেন এ জায়গাতে, এরকম ঘোষণা দিয়ে সিক্যুয়েল এনে দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা সহজ কোনো কাজ নয়। ঈদুল ফিতর ২০২২ সালে দ্বিতীয় পর্ব আসবে, এখনই সিটবেল্ট বাঁধলাম কীভাবে এর পরিণতি হয় তা দেখার জন্য। [আট] নায়িকা ঐশী নতুন মুখ, তাঁর জন্য শুভকামনা। তিনি চেষ্টা করেছেন সাধ্যমতো, আশা করি ভবিষ্যতে তিনি আরও বিস্তারিত রোলে অভিনয়ের সুযোগ পাবেন। [নয়] আব্বু, আম্মু তো ছিলোই, সঙ্গে নবপরিণীতা স্ত্রীও ছিলো মুভিটি দেখার সময়। ও বিদেশিনী, বাংলাদেশের সিনেমা সংস্কৃতি নিয়ে এখনো পুরোপুরি ধারণা তার গড়ে ওঠেনি। সাবটাইটেল থাকায় সেও ভালোভাবে দেখতে পেরেছে, এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ। মুভি শেষ হওয়ার পর বললো, ঞযরং সড়ারব ধিং ংঁৎঢ়ৎরংরহমষু মড়ড়ফ, ঃযব সধশরহম ধহফ পরহবসধঃড়মৎধঢ়যু ধিং বীপবষষবহঃ, রঃ ধিং নবঃঃবৎ ঃযধহ ধ ষড়ঃ ড়ভ যরময-নঁফমবঃ ঐড়ষষুড়িড়ফ/ইড়ষষুড়িড়ফ ংঁনংঃধহফধৎফ ভরষসং. আমার জন্য এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। গধংযৎড়ড়ভ ঐড়ংংধরহ-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]