• প্রচ্ছদ » » লোকাল সিস্টেমের আনন্দ, কষ্ট ও নিজের পরিণতি ভেবে সন্তুষ্টচিত্তে আমি আছি বাংলাদেশেই


লোকাল সিস্টেমের আনন্দ, কষ্ট ও নিজের পরিণতি ভেবে সন্তুষ্টচিত্তে আমি আছি বাংলাদেশেই

আমাদের নতুন সময় : 05/12/2021

আসিফ আকবর

একজন পরিচিত সিনে সাংবাদিকের ওয়াল থেকে তথ্য পেলামÑ আমাদের নায়ক শাকিব খান আমেরিকায় স্থায়ী হওয়ার জন্য অ্যাপ্লাই করেছেন। আমাদের ক্রিকেটের সেরা ব্র্যান্ড সাকিব আল হাসানের আমেরিকা ভিজিটের নমুনা দেখে মনে হচ্ছে তিনি মাইন্ডসেট করেছেন ওখানেই স্থায়ী হওয়ার। এ বিষয়ে আগেও লিখেছি, আবারও লিখছি। লুটেরা ব্যাংক ডাকাত আর টাকা পাচারকারীদের কথা আলাদা। সুযোগ পাওয়া মাত্রই আমাদের দেশের স্পোর্টস আর বিনোদন সেক্টরের সেলিব্রিটিগণ আশ্রয় খুঁজে নিচ্ছেন ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মতো সোশ্যালি সিকিউরড দেশগুলোতে। এ ধরনের মাইগ্রেশন নতুন কিছু নয়, এক পা দেওয়া আছে দেশের বাইরেই। উদাহরণের চেয়ে দেশান্তরীর তালিকা আরও সমৃদ্ধ।
এই ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি, বিক্ষুব্ধ সময় এখনো পার করছি। কিছুটা কষ্ট পেলেও দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার চিন্তা মাথায় এন্ট্রি পায়নি, প্রাপ্তিটাকেই ঐশ্বর্য ভেবেছি। সুযোগ আমারই ছিলো সবচেয়ে বেশি, কারণ আমি সবসময় দেশের বাইরে বৈধভাবে গিয়েছি কার্যাদেশ বা ওয়ার্ক পারমিট নিয়েই। যারা যাচ্ছেন তারা সবাই এই দেশে অবশ্যই অবস্থাপন্ন ছিলেন। তারপরও কেন গেলেন। রাষ্ট্রের জনগণের সর্বোচ্চ ভালোবাসা পাওয়া মানুষগুলো কেন চলে যাচ্ছেন। আমার গোঁয়ার্তুমি এক জিনিস, আর অন্য সবার বৈষয়িক ভাবনা সম্পূর্ণ আলাদা। আমি কাউকে ব্লেইম করছি না, নিজেও খুব দেশপ্রেম দেখানোর ভাবও নিতে চাচ্ছি না। শেষ পর্যন্ত আটকে গেছি একটা অন্যরকম উদাহরণে, নাম লিওনেল মেসি। বার্সেলোনায় একটা মধুর জীবন কাটিয়েও শেষ পর্যন্ত তাকে চলে যেতে হয়েছে প্যারিসে। বার্সা আর মেসির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ চরিত্রটার আসল রূপটা দেখা দিলো।
পেশাদারিত্বে নিজস্ব আবেগকে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশি মানুষ হিসেবে আমরা আবার আবেগের বাইরে যেতেও পারবো না। মেসির প্রতি বার্সার অবিচারটা পেশাদারী হলেও ওর চলে যাওয়ার ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু লেগেছে। মেসিভক্তরা কষ্ট পেয়েছেন নিশ্চয়ই, তবে আমার মনে নতুন ভাবনার জন্ম দিয়েছে। প্রত্যেকটা মানুষ তার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। এদেশের সেলিব্রিটিরাও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতেই মাইগ্রেটেড হচ্ছেন। আমার ছেলেরাও চলে যেতে চাচ্ছে, চলেও হয়তো যাবে। কী লাভ হলো এতোদিন- সকল দেশের সেরা সে যে ( রানী) আমার জন্মভূমি গানটি গেয়ে। হিসাব একটাই- সামাজিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। দেশের আসল পাখিরা দেশে আসছে শীতের পাখি হয়ে, আর শীতের দেশের পরিযায়ী পাখিরা মৌসুমে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসে উপভোগ করছে এদেশের মৃদু শীতল আমেজটা। আছি এ দেশেই, আমাকে পছন্দ হোক আর না হোক, সহ্য করার অভ্যাস করে ফেলুন। যারা গেছেন, যাচ্ছেন যাবেন, তাদের অভিনন্দন। আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে লোকাল সিস্টেমের আনন্দ, কষ্ট নিজের পরিণতি ভেবে সন্তুষ্টচিত্তে আমি আছি বাংলাদেশেই। এর বাইরে আর কোনো কিছু ভাবতেই পারি না। জীবদ্দশায় হয়তো জানতেও পারবো না অনেক কিছুই, তবে নিশ্চিত- একদিন আমাকে নিয়েও গর্ব করবে এদেশের কিছু মানুষ। এটাই আত্মতৃপ্তি আমার। ভালোবাসা অবিরাম। অঝওঋ-র ফেসবুক পেজে লেখাটি পড়ুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]