কোন জার্নাল সবচেয়ে বেশি নোবেল বিজয়ী কাজের আর্টিকেল প্রকাশ করেছে?

আমাদের নতুন সময় : 02/01/2022

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন

কোন জার্নাল সবচেয়ে বেশি নোবেল বিজয়ী কাজের আর্টিকেল প্রকাশ করেছে? দেখা গেছে এই পর্যন্ত যেসব কাজের জন্য পদার্থবিদরা পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তার ২৮ শতহাংশই আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি থেকে প্রকাশিত ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স থেকে প্রকাশিত। অস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল প্রায় ১১ শতাংশ, সায়েন্স জার্নালে ৫.৬ শতাংশ অ্যান্ড নেচার জার্নালে ৪.৭ শতাংশ আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে। তাদের মধ্যে সায়েন্স এবং নেচার জার্নালের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর হলো যথাক্রমে ৪১ এবং ৪৯-এর বেশি। যেখানে ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্সের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর হলো ৯.৬। এমনিতেই সোসাইটি থেকে প্রকাশিত জার্নাল যেমন আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি, আমেরিকান ইনস্টিটিউট অফ ফিজিক্স, ইনস্টিটিউট অফ ফিজিক্স প্রভৃতি থেকে প্রকাশিত জার্নালে ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর সবসময়ই কম থাকে কারণ তাদের তো টাকাপয়সা উপার্জনের লক্ষ্য নেই। কোম্পানি থেকে প্রকাশিত জার্নালের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর একটু বেশিই থাকে কারণ তাদের অর্থ উপার্জনের ব্যাপার আছে তাই ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর বাড়ানোর জন্য কিছুটা ছন্দাইনন্দাই করেই। সম্প্রতি আমি একটি কোম্পানির জার্নালে দুটি আর্টিকেল প্রকাশ করেছি যার ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৫.৯ এর বেশি। অথচ এই দুটি আর্টিকেল আমি তার অর্ধেকেরও কম ইম্পাক্টর ফ্যাক্টরওয়ালা জার্নাল ফিজিক্যাল রিভিউতে সাবমিট করারই সাহস পাইনি। একটি আর্টিকেল ফিজিক্যাল রিভিউতে প্রকাশ করতে রিভিউয়ারদের সঙ্গে কতোটা যুদ্ধ করতে হয় তা সবাই জানে। এজন্যই আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি থেকে প্রকাশিত জার্নালকে বলা হয় বনেদি জার্নাল। আর সবসময় ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টরের দিকে দৌড়ানো ঠিক নয়। ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর, সাইটেশন ইত্যাদি বিষয়, কোম্পানি না সোসাইটি ইত্যাদি অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ছাড়াও আছে য-ইনডেক্স এবং র-ইনডেক্স। এই দুটো বরং একটু বেটার ইনডেক্স। দেখা গেছে আমেরিকাতে যারা টেনুর ফ্যাকাল্টি হয় তাদের গড় য-ইনডেক্স ১৩। সাইটেশন বৃদ্ধিতেও নানান কারসাজি আছে। তবে গবেষক ও শিক্ষকদের কাছ থেকে এসব ছন্দাইনন্দাই কেউ আশা করে না। কেউ যখন দেশি অখাদ্য জার্নাল, চাইনিজ, টার্কিশ বা আজেবাজে জার্নালে অনবরত প্রকাশ করে তখন বুঝতে হবে ডালমে কুচ কালা হ্যায়। ভালো জিনিস খান, ভালো কাজ করুন, ভালো জায়গায় প্রকাশ করুন আর এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ভালো উদাহরণ হন। ভালো থাকুন। লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়


সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]