জন্মের ঋণ শোধ করার জন্য উতল হাওয়া বইতে থাকে সেই রাতে

আমাদের নতুন সময় : 02/01/2022

অপরাহ্ন সুসমিতো : [১] ঢাকায় সিনেমা হলে বসে আমি সিনেমা দেখেছি মাত্র ৩টা। ছবিগুলো [ক] লাল সবুজের পালা, [খ] বারুদ, [গ] আগুনের পরশমনি। এই সিনেমাগুলো দেখতে গিয়ে আমার নানান ধরনের অভিজ্ঞতা হয়। লেখক হওয়ার একটা যন্ত্রণা আছে, খুব পর্যবেক্ষণ করতে হয় চারপাশ। চোখ আমার ছোট হওয়ার একটা সুবিধা আছে। লোকজন ভাবে আমি কিছু দেখছি না, কিন্তু চেষ্টা করি মানুষের মুখ দেখতে। একজন মেয়ে কী করে ওড়না ঠিক করেন, একজন যৌনকর্মী কী রকম মেকাপ করেন, চানাচুর বিক্রেতার চানাচুর মুড়ি মিক্স করার ধ্বনি, লন্ডনি পয়সায় সুদর্শন যুবক কেমন করে মোটরসাইকেল স্টার্ট দেয় মেয়েদের স্কুলের সামনে, সিনেমা হলের ব্ল্যাকার টিকেটগুলো কীভাবে আঙুলের ফাঁকে ধরে রাখে, সব আমার মুখস্থ। ঢাকায় এই ৩টা সিনেমা দেখার কথা আমার বেশ মনে আছে। এতোদিন পরেও আমার চোখের সামনে ভাসে।
(পুনশ্চ: আগুনের পরশমনি সিনেমাটা দেখার সময় পাশে বসা একটা মেয়ে বেশ কয়েকবার আমাকে চিমটি কেটেছিলো। ফিসফিস করে মিথ্যা বলে মেয়েটাকে ভয় দেখিয়েছিলাম যে আমি রমনা থানার ওসি। চিমটি বন্ধ। যদিও চিমটিগুলো ভালো লাগছিলো)।
[২] ছোঁয়া পরিবহনের একটা বাসে করে সিরাজগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে জাকিয়া সুলতানা রূপা নামের মিষ্টি একটা মেয়েকে বাসের স্টাফরা ধর্ষণ করে মেরে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেয়। মেয়েটি তাদের বলেছিলো, সঙ্গে যা টাকা পয়সা আছে, তা নিয়ে যেন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে, মাথা থেঁতলে তাকে হত্যা করে লাশ রাস্তায় ফেলে চলে যায় বাসের কর্মচারীরা। খবরের কাগজে এটা পড়ার পর, মেয়েটার মুখ আমার অন্তরে কাঁদতে থাকে। আমি খুবই সীমিত ক্ষমতার মানুষ। অক্ষম একটা যন্ত্রণা আমাকে নির্ঘুম করে রাখে। [৩] পুলিশ যখন ছোঁয়া পরিবহন বাসের এসব খুনিদের গ্রেপ্তার করতে যায় তখন তাদের একজনের স্ত্রী অবাক হয়ে পুলিশকে জানায় যে, সে স্বপ্নেও ভাবতে পারছে না যে, তার স্বামী কাল রাতে এ রকম একটা মেয়েকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে হত্যা করে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে এসে বাসায় ঠাণ্ডা মাথায় খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। কোনো বিকার নেই। আমি লেখার জন্য উতলা হয়ে উঠি। আমাদের শহরে সেদিন অসভ্য বৃষ্টি। আমার জন্ম বর্ষাকালে বলে বৃষ্টি দেখলে অস্থির লাগে, জন্মের কোনো স্মৃতি খুঁজতে থাকি, জন্মের একটা ঋণ শোধ করার জন্য উতল হাওয়া বইতে থাকে সে রাতে। শুরু হয় গল্প, এভাবেই বোধ হয় অন্ধকার শুরু হয়।


সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]