ধান্দাবাজ হতেও যোগ্যতা লাগে!

আমাদের নতুন সময় : 02/01/2022

আকতার বানু আল্পনা

নিজের ভালো পাগলেও বোঝে। আমরাও সবাই আমাদের নিজেদের ভালো বা স্বার্থ খুব ভালো বুঝি। সেজন্য আমরা সবাই কমবেশি স্বার্থপর। তবে স্বার্থপর হওয়াটা তেমন দোষের কিছু নয়। দোষের হলো ধান্দাবাজ হওয়া। স্বার্থপর আর ধান্দাবাজের মধ্যে পার্থক্য আছে। স্বার্থপররা সবসময় নিজের স্বার্থ (নিজের যা কিছু সে অর্জন করেছে বা আছে তা) রক্ষা করে চলবে। আর ধান্দাবাজরা ছলে, বলে, কৌশলে অন্যকে ব্যবহার করে হলেও যা তার প্রাপ্য নয়, (স্বাভাবিক পন্থায় যেটা পাওয়ার যোগ্যতা তার নেই) তা আদায় করে ছাড়বে (যোগ্য কাউকে বঞ্চিত করে)। এজন্যই ধান্দাবাজ হওয়াটা দোষের। তবে ধান্দাবাজ লোকেদেরও বিরাট কিছু গুণ বা যোগ্যতা আছে, যা আপনার-আমার নেই।
যেমন- [১] স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা যে কারও সঙ্গে (বিশেষ করে ক্ষমতাবান মানুষদের সঙ্গে) লতায়-পাতায় সম্পর্ক বানাতে ওস্তাদ। [২] অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কথায় পটিয়ে, তৈলমর্দন করে, ঘুষ দিয়ে বা যেকোনোভাবে তারা ক্ষমতাবানদের পটিয়ে ফেলতে পারে। [৩] যাকে ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিল করবে, সেসব ক্ষমতাবান মানুষদের কার কি পছন্দ, তাদের কাকে কোন্ কথা বলে খুশি করা যাবে, কাকে কী উপহার দিয়ে মুগ্ধ করা যাবে (বিয়ার, শুঁটকি মাছ, আচার ইত্যাদি), ক্ষমতাবানদের কার বাড়ি কোথায়, তাদের বাচ্চাদের নাম কী, কোথায় পড়ে, ক্ষমতাবানদের বউ বা মা কী খেতে পছন্দ করেন (দিনাজপুরের বাসমতি চাল, ঝিনাইদহের কালাভুনা ইত্যাদি) এ রকম সব তথ্য তাদের নখদর্পণে। [৪] যাদের ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিল করবে, তাদের কাছে ধান্দাবাজরা নিজেকে এমনভাবে তুলে ধরে যে, ক্ষমতাবানদের মনে হবে, তার মতো এতো আপন ও শুভাকাক্সক্ষী গোটা দুনিয়াতে তাদের আর একজনও নেই। [৫] ধান্দাবাজরা যখন যেখানে থাকে, তখন সেখানকার ক্ষমতাবান মানুষদের সবার সঙ্গে খুব অল্প সময়ে একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে ফেলে এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সে সম্পর্ক রক্ষা করে চলে।
[৬] ধান্দাবাজরা ক্ষমতাবান মানুষদের সঙ্গে এমন সুমধুর ব্যবহার করবে যে, ক্ষমতাবানরা তাকে উপেক্ষা করতে পারবেন না। ফলে ধান্দাবাজরা ক্ষমতাবানদের যথাসময়ে খুব সহজে ব্যবহার করে তাদের কাজ ঠিক আদায় করে নিয়ে ছাড়বে। [৭] ধান্দাবাজরা সবার সঙ্গে এমনভাবে কথা বলে যে, তার মতো জ্ঞানী, ক্ষমতাবান, কাজের কাজী এবং হাইলি কানেকটেড ব্যক্তি (ওবামার আপন আকাশতুতো ভাই। মানে একই আকাশের নিচে দুজন বাস করে) গোটা দুনিয়াতে আর একজনও নেই এবং মানুষকে সেটা সে বিশ্বাস করাতেও পারে। ইত্যাদি।
এত্তোসব গুণ অর্জন করা কি সহজসাধ্য? চাট্টিখানি কথা? আপনি পারবেন? না। এজন্য ধান্দাবাজদের কাছেও আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। এজন্যই রবিঠাকুর বলেছেন, ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র!’ এরকম বিরাট গুণধর এক ধান্দাবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলো। ফলে সেই ধান্দাবাজ শিক্ষকের শাস্তি অবধারিত হয়ে গেলো। তখন ওই শিক্ষক শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য এমন কিছু ক্ষমতাবান লম্পট শিক্ষকদের কাছে গেলেন, যারা নিজেরাও নারী কেলেঙ্কারিতে অত্যন্ত সিদ্ধহস্ত (মানিকে মানিক চিনলো)।
তবে অনেক চেষ্টা করেও তারা ওই ধান্দাবাজ লম্পট শিক্ষককে শাস্তি পাওয়া থেকে বাঁচাতে পারলেন না। শেষে ওই ধান্দাবাজ লম্পট শিক্ষক তার খুব ঘনিষ্ঠ এক ক্ষমতাবান শিক্ষকের কাছে গেলেন। আমাকে রক্ষা করুন। আমি আপনাদের দলের লোক। আমি আপনাদের বন্ধু। শুনে সে শিক্ষক সামান্য মুচকি হেসে বললেন, ‘তুমি যার বন্ধু, তার শত্রুর দরকার পড়ে না। গেট লস্ট।’ এই সেমিস্টারে সব মিলিয়ে প্রতি সপ্তাহে ৫ দিনে আমাকে মোটেই ১৯টা ক্লাস নিতে হবে। আর ছুটির দুদিনে (শুক্র-শনি) মিশন হাসপাতালে বসবো। আহা কী আনন্দ আকাশে-বাতাসে! তবুও শুভ নববর্ষ। ফেসবুক থেকে


সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]