• প্রচ্ছদ » » জাতির জনকের স্বদেশে ফিরে আসা ও তাঁর ‘স্বপ্নের সোনার বাংলা’র স্বপ্নডানা


জাতির জনকের স্বদেশে ফিরে আসা ও তাঁর ‘স্বপ্নের সোনার বাংলা’র স্বপ্নডানা

আমাদের নতুন সময় : 10/01/2022

অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ

বঙ্গবন্ধুÑবাঙালি জাতির জনক। টুঙ্গিপাড়ার খোকা। বিশে^র নিপীড়িত মানুষের আপনজন। বঙ্গবন্ধু বেঁচেছিলেন প্রায় ৫৫ বছর। এই সময়ে জেলে জেলে কাটিয়েছেন প্রায় চৌদ্দ বছর। জীবনের মূল্যবান সবসময়ে ছিলেন কারাগারের অন্তরীণে। নিজের দিকে তাকাননি, পরিবারের সুখ-দুঃখের কথা ভাবেননি। যা করেছেন, যতোটুকু করেছেন সবটাই এদেশের মানুষের জন্য। ভালোবেসে। কিছু না পাওয়ার আশা করেই।
বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভাষণ ছিলো তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে স্বাধীনতার সবুজসংকেত। স্বাধীনতার ঘোষণা সেদিন দেননি জনক, তবে স্বাধীনতার ঘোষণা বাকিও রাখেননি। যখন বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ তখন কি আর স্বাধীনতার ঘোষণার বাকি থাকে? থাকে না। সেদিনও কার্যত স্বাধীনতার ঘোষণাই দিয়েছিলেন তিনি। সাত মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর স্বাধীনতাকামী বাঙালি উজ্জীবিত হয়ে উঠলো। পাকিস্তানি শাসকরা নানানভাবে আমাদের স্বাধীনতার আকাক্সক্ষাকে ধূলিসাৎ করার চেষ্টা অব্যাহত রাখলো। ২৫ মার্চের অপারেশন সার্চলাইট করে বাঙালি নিধন করলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। মানুষের বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হলো। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন মহান নেতা বঙ্গবন্ধু। তিনি বললেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। বাংলাদেশের মানুষ যে যেখানে আছেন, আপনাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর মোকাবেলা করার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলাদেশের মাটি থেকে উৎখাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আপনাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে’। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার পরপরই পাকিস্তানি শাসকরা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে।
স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হামলে পড়ে বাঙালির ওপর। এদেশের কিছু মানুষ তাদের সহযোগী হয়। হত্যাযজ্ঞ চালায় দেশব্যাপী। নয় মাস পর বাংলাদেশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় পাক বাহিনী। আমরা বিজয় লাভ করি ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। বিজয়ের দিনে মানুষের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, আনন্দ আর জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিলো সেদিন। বিশ^ দেখেছিলো বাঙালিদের জয়। লাখ লাখ মানুষ রক্ত দিয়েছে, মা-বোনেরা সম্ভ্রম দিয়েছেন, তবুও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে মাথানত করেননি। বিজয় অর্জন করেছে, কিন্তু বাঙালির মনে আনন্দের পুরো মাত্রা পায়নি তখনো। কেন পায়নি? কারণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনো পাকিস্তানের কারাগারে। তাঁর জন্য কবর খোঁড়া হয়েছিলো। মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিতে ঝুলানোর সব আয়োজন সম্পন্ন করেও ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিলো তখনকার পাক সরকার। বিশ^জনমত নিপীড়িত মানুষের নেতার পক্ষে ছিলো। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধুর জন্য বিশ^ চড়ে বেড়িয়েছিলেন। এমন কোনো চেষ্টা তিনি বাদ রাখেননি বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য। ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তির পর লন্ডন ও বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারত হয়ে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে দেশে ফেরেন জাতির জনক। সেকি বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস মানুষের। মুক্তিসংগ্রামের নায়ক দেশে ফিরেছেন, যাঁকে ঘিরে বাংলাদেশ সৃষ্টি তিনি ছিলেন না, তাঁকে আটকে রেখেছিলো, ফাঁসিতে ঝুলাতে চেয়েছিলো, তাঁকে স্বদেশের মানুষের মাটিতে দেখে জনতার জয় পরিপূর্ণ হয়েছিলো।
বঙ্গবন্ধু একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পেয়েছিলেন। তিনি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে। এগিয়ে যেতে। অনেক সাফল্য তিনি পেয়েছিলেন। অনেক বাধা তাঁকে অতিক্রম করতে হয়েছিলো। পাকিস্তানিরা এদেশের মানুষ হত্যা করেছিলো, এদেশের অবকাঠামোও ধ্বংস করে দিয়েছিলো। মানুষের তখন অন্ন, বস্ত্র, খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জিং ছিলো, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশকে যখন একটা জায়গায় নিয়ে আসছিলেন, তখন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা তাঁকে হত্যা করে সপরিবারে। যা পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম নৃশংসতম ঘটনা।
বাংলাদেশবিরোধী ঘাতকরা ভেবেছিলো, এদেশ আর কখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। পাকিস্তানি ভাবধারায় চলবে স্বদেশ। কিন্তু না তাদের সে আশা পূরণ হয়নি। সামরিক শাসন পর্ব শেষে দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে দীর্ঘ একুশ বছর পর। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে। দেশ এগিয়ে যেতে শুরু করে। বিগত তেরো বছর বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তার নেতৃত্বে শক্ত ভিত্তি পেয়েছে। দুনিয়ার নিরঙ্কুশ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। এটাই তো চেয়েছিলেন জাতির জনক। বাংলাদেশ ভালো থাকবে, মানুষ ভালো থাকবে, সুখী সমৃদ্ধ একটি দেশ হবে। জনকের সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পথে। খুব বেশি দূরে নয় যেদিন বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হবে।
লেখক : চিকিৎসক, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]