• প্রচ্ছদ » » মহান মুজিবের ঋণ কোনোদিন শোধ হবার নয়


মহান মুজিবের ঋণ কোনোদিন শোধ হবার নয়

আমাদের নতুন সময় : 10/01/2022

অধ্যাপক ডা.কামরুল হাসান খান

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ চূড়ান্ত সিগন্যাল পেয়েছিলো যে দেশ মুক্তি যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে। এর পরবর্তী সময় বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে দেশে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। সেদিন রাত থেকে পিলখানা, পুলিশ হেডকোয়াটার্স এগুলোতে যুদ্ধ শুরু হয় যায় প্রতিরোধ যুদ্ধ। তার পরবর্তী সময় পুরো মুক্তিযুদ্ধটি হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নামে । স্বাধীন বাংলা সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু এবং সেখান থেকে তার নামে যুদ্ধ শুরু হয়। যখন আমরা ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জন করলাম তখন স্বাধীনতাটা অসম্পূর্ণ ছিলো কারণ বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে স্বাধীনতার পূর্ণতা ছিলো না। কারণ যিনি পুরো জাতিকে তিল তিল করে স্বাধীনতার দিকে, মুক্তিযুদ্ধের দিকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত করেছেন তার অনুপস্থিতে আমাদের স্বাধীনতা একইবারে অসম্পূর্ণ মনে হচ্ছিলো। সেকারণে দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিলো কবে বঙ্গবন্ধু আসবে অর্থাৎ মানুষের মনে তেমন আনন্দও ছিলো না, বিজয় অর্জনের পর জাতির যে আনন্দ তা ছিলো কষ্টকর আনন্দ।
বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় না। এরপর সেখানে স্বীকার করতে হবে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রি ইন্দ্রাগান্ধীর কথা তার বিশেষ তৎপরতায় সারা বিশ্বব্যাপী বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করেছেন। ওই সময় বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি আদেশ দেওয়া হয় এবং তাঁকে ফাঁসির জন্য প্রস্তুতও করা হয়েছিলো কিন্তু বিশ্ব জনমতের চাপে তারা সেটা কার্যকর করতে পরেনি। পরবর্তী সময় তারা বাধ্য হয়েছিলো বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে। বঙ্গবন্ধু যে ফিরে আসেন সেদিন গোটা দেশের মানুষ আবেগে আপ্লুত হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দরে যখন নামলেন সেখান থেকে জনসভায় পৌঁছতে তাঁর তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়। কারণ ওইদিন মানুষের জনস্রোত ছিলো এছাড়া সারাদেশে রেডিওতে রানিং কমেন্ট্রি চলছিলো। যারা ঢাকা আসতে পারেনি তারা রেডিওতে বঙ্গবন্ধুর দেশে প্রত্যাবর্তনের খবর শুনছে অর্থাৎ সবাই বঙ্গবন্ধুর দিকে চেয়েছিলো বঙ্গবন্ধু ফিরছেন। এরপর বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দেন সেখানে আবেগ, কান্না, বেদনা, ভালোবাসা ছিলো। ত্রিশ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে এবং মা-বোন নির্যাতন হয়েছে তাদের কথা ছিলো ভাষণে এরপর দিক নির্দেশনা ছিলো দেশটা কীভাবে চলবে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা পায়। এরপর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশটিকে একটি নিয়মের মধ্যে একটি পদ্ধতির মধ্যে এছিলেন।
এমন কোনো সেক্টর ছিলো না যে সেখানে তিনি স্পর্শ করেননি বা সঠিক নীতিমালা ঠিক করেননি। বঙ্গবন্ধু প্রথম পঞ্চম বার্ষিকী পরিকল্পনাসহ সকল ক্ষেত্রে তিনি কাজ করেছেন। স্বাস্থ্যের কথা বললে সেখানে তিনি গ্রামীণ স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা তিনি করে গিয়েছেন। এরকমভাবে প্রতিটা ক্ষেত্রে তিনি সঠিক নির্দেশনা এবং নীতিমালা করেছেন। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দেশে যেখানে খাবারের সংকট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক নেই একবারে শূন্য্য নয় শূনের থেকেও নিচে সমস্ত কিছু অচল করে দিয়েছিলো তারা, সেখান থেকে একটা প্রশাসন চালানো বা নতুন করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ ওই সময়ে সামাজিক অস্থিরতা, কিছু স্বাধীনতাবিরোধী, সুবিধাবাধীসহ সকলকে নিয়ন্ত্রণ করে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে উন্নয়নের ধারা শুরু করেছিলেন। কিন্তু তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার আগে তাঁকে হত্যা করা হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। আমরা মনে করি বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি বাঙালি জাতির যে ঋণ তা আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারবো না। বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করি এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি। শুধু শ্রদ্ধা জ্ঞাপনই নয় বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য ও আদর্শ ধারণ করে সকল মানুষের ভূমিকা রাখা উচিত, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য। পরিচিতি: সাবেক উপাচার্য, বিএসএমএমইউ। সাক্ষাৎকার : আব্দুল্লাহ আল মামুন




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]