আমরা কি আসলেই ভালো হবো না!

আমাদের নতুন সময় : 16/01/2022

ড.আসাদুজ্জামান রিপন

‘নাকের বদলে নাক, চোখের বদলে চোখ’ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি বা প্রতিপক্ষ নির্মূলের রাজনীতির ঘোরতর বিরোধী আমি বরাবর। ২০১৫ সালের শুরুতেই আমি বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রথম দিনই আমার প্রতিপক্ষ দলকে (যাকে আমি প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে পছন্দ করি) একটি বার্তা দিই। তাহলো বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে একটি ভিত্তিতে দাঁড় করাতে চাইলে বিভেদ, অনৈক্য ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর সেজন্য সবাইকে অতিতাশ্রয়ী ক্ষোভ হতাশা থেকে বেরিয়ে দেশের ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে পরস্পরের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে বোঝাপড়া করতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশের বর্তমান এই অপরাজনীতি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সকল সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করে দেবে। আর এজন্য ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিকদের একগুঁয়েমিতাকেই দায়ী করবে নতুন প্রজন্ম। কারণ আমাদের দলের তরফে আমরা বারবার সকল বিভেদ ভুলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সবার সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা আমাদের কথা আমলে নেয়নি।
(ইংরেজিতে যা আমি এভাবেই বোঝাতে চেয়েছি যে চড়ষরঃরপং রং ধহ ধৎঃ ড়ভ ৎবপড়হপরষরধঃরড়হ, চড়ষরঃরপং রং ধহ ধৎঃ ড়ভ ধফলঁংঃসবহঃ. চড়ষরঃরপং রং ধষংড় ঃযব ধৎঃ ড়ভ পড়সঢ়ৎড়সরংব. ইঁঃ ঃযরং ফড়বং হড়ঃ সবধহ ঃযধঃ ুড়ঁ যধাব ঃড় ংঁৎৎবহফবৎ ুড়ঁৎ ঢ়বৎংড়হধষ পড়হারপঃরড়হং ধহফ ধষধিুং ষবাবষ ঃযব ফবপরংরড়হ-সধশরহম ঢ়ৎড়পবংং ঃড় ঃযব ষড়বিংঃ পড়সসড়হ ফবহড়সরহধঃড়ৎ. ইঁঃ ধঃ ঃযব ংধসব ঃরসব, রঃ ফড়বং সবধহ ঃযধঃ বভভবপঃরাব ষবধফবৎং যধাব ঃড় শববঢ় ধহ ড়ঢ়বহ সরহফ ধহফ নব ধনষব ঃড় রফবহঃরভু ঃযব মৎবধঃবৎ মড়ড়ফ ধহফ ঃযব ষবংংবৎ ড়ভ ঃড়ি নধফ ংড়ষঁঃরড়হং, ধহফ ঃযবহ সধশব ধ ঃরসবষু পযড়রপব, রহ মড়ড়ফ ভধরঃয, ঃড় ঃযব নবংঃ ড়ভ ঃযবরৎ ধনরষরঃু.) কিন্তু, কে শোনে কার কথা। অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। দেশ এখন কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, উত্তর কোরিয়া, বেলারুশের কাতারে নেমে আমেরিকার সেংসন (ঝধহপঃরড়হং) এর মুখে পড়েছে। যে কারণে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লো, অর্থাৎ মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের উন্নয়ন না করে ভূতের মতো উল্টো হাঁটা শুরু করেছে আবার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বারবার নির্বাচিত ডিন, রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং শিক্ষক সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপিকা তাজমেরী এস ইসলাম, যিনি অধ্যাপনা থেকে অবসরের পর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনোনীত হয়েছেন তাঁকে ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিস্ফোরক ও মারপিটসহ বিভিন্ন অভিযোগে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় করা বানোয়াট ও গায়েবী মামলায় গ্রেপ্তার ও জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানো হয়েছে ১৩ জানুয়ারি। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য প্রবীণ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ কি দেশ বিদেশের কেউ বিশ্বাস করে? তবুও গায়েবী মামলা দিয়েছে, চার্জশিটও দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ১৩ জানুয়ারি রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে শুনানি শেষে প্রফেসর ড. তাজমেরী এস ইসলামকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠান। একজন সম্মানিতা বয়োজ্যেষ্ঠ নারীকে ভুয়া মামলায় অধস্তন আদালত জামিন দিয়ে জেলে না পাঠালেও পারতেন। একজন সম্মানিতা, বয়োজ্যেষ্ঠ নারীর প্রতি এটি চরম জুলুম ও জামিন আইনেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে, এই খবরটি আওয়ামীপন্থি বুদ্ধিজীবীদের জন্য মোটেই সুখকর নাও হতে পারে। কারণ এই দিন, দিন নয়, আরও দিন আছে, এই দিনকে নিয়ে যাবে (না চাইলেও) সেইদিনের কাছে। আমরা কি আসলেই ভালো হবো না? নাকি কঠিন বিপর্যয়ের মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধান? ফেসবুক থেকে


সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]