• প্রচ্ছদ » » আমাদের বিজ্ঞানীরা কেমন করছেন?


আমাদের বিজ্ঞানীরা কেমন করছেন?

আমাদের নতুন সময় : 16/01/2022

রুমী আহমেদ

একটা জাতির মেধাগত উৎকর্ষের মানদণ্ড হচ্ছে এই জাতির ইনোভেশন, বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড, টেকনোলজিক্যাল আবিষ্কারের ক্ষমতা- একটা সভ্যতার মেধার সনদপত্র হচ্ছে বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে এই সভ্যতার অবদানের টালিখাতা। এই জাতি, এই সভ্যতা প্রতিবছর বিজ্ঞানওয়ারী কী পরিমাণ সায়েন্টিফিক পেপারের জন্ম দিচ্ছে এটাই এই জাতির উৎকর্ষের সবচেয়ে বড় প্রমাণপত্র। বাংলাদেশ কেমন করছে এই বিষয়ে? আমাদের বিজ্ঞানীরা কেমন করছেন? দেশের বিজ্ঞানীরা প্রতিবছর কী পরিমাণ সায়েন্টিফিক পেপার লিখছেন? সবার শীর্ষে আছেন কোন বিজ্ঞানী? কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউট থেকে প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি সায়েবটিফিক পেপার প্রকাশিত হচ্ছে? দেশে এমন কি কোনো ডাটা আছে? হ্যাঁ আছে। গত বারো বছর ধরে সায়েন্টিফিক বাংলাদেশ নামে বাংলাদেশ অরিজিন বিজ্ঞানীদের ভলান্টিয়ার একটি সংগঠন এই কাজটি করে আসছে নিরবচ্ছিনভাবে। সায়েন্টিফিক বাংলাদেশ আরও অনেক কাজ করে- যেমন: এটা একটা অনলাইন বিজ্ঞান ম্যাগাজিন- এখানে নতুন বিজ্ঞানীদের জন্য গ্র্যান্ট লেখার ট্রেইনিং, গ্র্যান্টের সুযোগ, বিদেশে পোস্টডক সুযোগসহ আরও অনেক রিসোর্স আছে। তবে সায়েন্টিফিক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাৎসরিক কাজ হচ্ছে এই লিস্ট প্রকাশনা। সায়েন্টিফিক বাংলাদেশ বরাবরের মতো এবারও প্রকাশ করছে দেশের গত বছরের রিসার্চ রিপোর্ট কার্ড। আমাদের ইতিহাসে এই প্রথম বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের প্রকাশিত পাবলিকেশনের সংখ্যা দশ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গত বছর দেশের বিজ্ঞানীদের প্রকাশনার সংখ্যা ১১৪৭৭। এই বছর সবচেয়ে বেশি ৪২টি পেপার নিয়ে দেশের বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রকাশনা তালিকার শীর্ষে আছেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী তালহা বিন ইমরান।
ইনস্টিটিউশনের মধ্যে পাবলিকেশন তালিকায় শীর্ষ তিনে আছে যথাক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যান্ড বুয়েট। তবে এই অবস্থান আনফেয়ার যদি আমরা বিবেচনা করি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি সংখ্যা ও আরও রিসোর্সের ফারাক বিবেচনা করলে। এই বিচারে একটা বেশি এপ্রোপ্রিয়েট র‌্যাংকিং হয় যদি আমরা ফ্যাকাল্টি প্রতি পাবলিকেশন হিসাব করি। ফ্যাকাল্টি প্রতি পাবলিকেশন তালিকায় দেশে প্রথম পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো মওলানা ভাসানী ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, যশোর ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, বুয়েট, এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের মহিলা বিজ্ঞানীদের মধ্যে শীর্ষে আছেন আইসিডিডিআরবির ফেরদৌসী কাদরী। দেশের শীর্ষ নয় মহিলা রিসার্চারের মধ্যে ছয়জনই আইসিডিআরবির। এ বছর এই তালিকা প্রকাশনা একটা বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হবে। দেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের রিসার্চ নিয়ে সাবজেক্টওয়ারী একটা কনফারেন্স সিরিজ আর আয়োজন করছে সায়েন্টিফিক বাংলাদেশ। এই কনফারেন্স সিরিজের গ্র্যান্ড ওপেনিং কনফারেন্সটা অনুষ্ঠিত হবে ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। ৫০ ণবধৎং ড়ভ জবংবধৎপয রহ ইধহমষধফবংয: ওহংরমযঃং ভৎড়স ঝঈঙচটঝ উধঃধনধংব শীর্ষক এই ভার্চ্যুয়াল কনফারেন্সে কীনোট স্পিকার হিসেবে আসবেন ঢাকার বাইরের একটা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিজিক্সের দুজন প্রফেসর- অধ্যাপক রায়হানা শামস ইসলাম এবং অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব। প্রধান অতিথি থাকবেন ড. শমসের আলী। অনুষ্ঠানটি সায়েন্টিফ বাংলাদেশের ফেসবুক পেজে লাইভ সম্প্রচারিত হবে। ঝঈঙচটঝ ডাটাবেজ এর উপর গবেষণা করে- জটিল পদ্ধতি ও এলগোরিদম ইউজ করে প্রতিবছর এই তালিকা প্রণয়নের অত্যন্ত জটিল কাজটা করেন সায়েন্টিফিক বাংলাদেশের ফাউন্ডিং এডিটর ও সৌদি আরবের কাসিম ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলোজির অধ্যাপক- ড. মুনির উদ্দিন আহমেদ। লেখক: হেলথ সায়েন্স এডিটর, সায়েন্টিফিক বাংলাদেশ


সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]