• প্রচ্ছদ » » কাভার দেখে কি বই পড়ার উৎসাহ জন্মায়?


কাভার দেখে কি বই পড়ার উৎসাহ জন্মায়?

আমাদের নতুন সময় : 16/01/2022

কামরুল আহসান

কিছুটা হয়তো জন্ময়। খুব বেশি জন্মানোর কথা না। বইয়ের প্রচ্ছদ পোশাক না, যে অন্যের গায়ে দেখলেই পরতে ইচ্ছা করবে। বই যারা পড়ে তাদের একটা ধারাবাহিক চর্চা থাকতে হয়। সাধারণত ছোটবেলা থেকেই এটা হয়। হঠাৎ করে বইমুখী হওয়ার ঘটনা বিরল। বইয়ের পাঠক বরং দিনে দিনে কমে যায়। বড় হওয়ার সাথে সাথে সাথে অনেক পাঠক মরে যায়। সাংসারিক ব্যস্ততার কারণে অবশ্যই। আরেকটা কারণ হচ্ছে একটা পর্যায়ে গিয়ে মানুষ আর চিন্তার অসীম জগতের পেছনে ছুটতে পারে না। হাল ছেড়ে দেয়। কাহিল হয়ে পড়ে। এর মধ্যেই যা ধারণা হয় তাই দিয়ে জীবন পার করতে থাকে। সামনা-সামনি মুখোমুখি বসে আড্ডা। নানা তর্কবিতর্কের মধ্য দিয়েই পাঠাভিজ্ঞতা এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। একলা ঘরে বসে পড়াও বেশি দূর আগায় না। আনন্দপাঠ চলতে পারে সাময়িক, কিন্তু তাতে চিন্তার জগতে তেমন প্রভাব ফেলে না। পাঠ বিষয়টাই শেয়ারিংয়ের, ভাগাভাগির।
মানুষ কেন পড়তে চায় আর পড়াতে চায় না এই নিয়ে ‘পড়ো, তোমার প্রভুর নামে’ নামে একটা বড় লেখায় আমি অনেক কথা লিখেছি। বইপাঠের সঙ্গে ব্যক্তিগত আনন্দ, সমৃদ্ধি, সফলতাও যেমন জড়িত তার সঙ্গে রাজনীতিও জড়িত। যেহেতু বর্তমান দুনিয়টা চলেই রাজনীতির মাধ্যমে। রাজনৈতিক পাঠ ছাড়া সমস্ত পাঠই অর্থহীন। তা নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব আশ্রয় হতে পারে, বৃহত্তর সমাজের ক্ষেত্রে তা কাজে লাগে না। এমন কি কোনো ধর্মগ্রন্থও ব্যক্তিগত পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নাই, তা সমাজবদ্ধ পাঠের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
একজন মানুষ যে আরেকজন মানুষকে বই পড়ার উৎসাহ দেয় তার মানে হচ্ছে অন্যকে সে নিজের অনুভূতির সঙ্গে একীভূত করতে চায়। তাই দেখা যায় দ্বীনি ভাই দ্বীনি ভাইকে দেয় হাদিসের বই, এক কমরেড আরেক কমরেডকে দেয় মার্ক্সবাদের বই। নিছক গল্প-উপন্যাস-কাব্যগ্রন্থ যারা পাঠ করে তাদের ক্ষেত্রেও অনুচ্চারিত এক রাজনৈতিক ভাববিনিময় হয়, যা তারা হয়তো সচেতনভাবে জানে না। কোনো একটা নির্দিষ্ট বইয়ের প্রতি কেন কোনো একজন পাঠক আকৃষ্ট হবে তার কারণটা রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক-পারিপার্শ্বিক-মনস্তাত্ত্বিক অনেকগুলো বিষয়ের ওপরই নির্ভর করে। একজন হয়তো দেখা গেলো সারাদিন শুয়ে শুয়ে ‘মৌমাছি চাষ প্রকল্প’ নামে একটা বই পড়ছে। অথচ মৌমাছি চাষ করার কোনো পরিকল্পনাই তার নাই। সে বইটা পড়েছে শুধু কৌতূহলে। নক্ষত্রমণ্ডলী নিয়ে কেউ পড়লেই যে তাকে জ্যোতির্বিদ হতে হবে তাও না। কীভাবে পাঠক বাড়ানো যায় এই নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। পাঠক বাড়ানোটা কেন দরকার তার কারণটাও রাজনৈতিক। চিন্তার একটা নির্দিষ্ট স্তর পার হতে না পারলে সহনশীল হওয়া কঠিন। সুনাগরিক হওয়ার জন্য বিষয়টা জরুরি। সুনাগরিক হতে না পারলে আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় পাশাপাশি বাস করা দুরূহ হয়ে যাবে। লেখক ও সাংবাদিক


সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]