• প্রচ্ছদ » » নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন ভোট কি সুষ্ঠু হবে?


নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন ভোট কি সুষ্ঠু হবে?

আমাদের নতুন সময় : 16/01/2022

ইমতিয়াজ মাহমুদ

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ইলেকশন নিয়ে একটা ফেসবুক পোস্ট দিই। কৌতূহলের সঙ্গে ইলেকশনের কর্মকাণ্ড খেয়াল করছি আর এই নিয়ে চিন্তাটা সকলের সঙ্গে ভাগাভাগি করবো না সেটা ঠিক হবে না। আর নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন তো একটা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা, আলোচনা করা দরকার আছে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে একটা সিটি কর্পোরেশন একটা প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে যেরকম গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা, আমাদের বর্তমান ব্যবস্থায় সেটা করা হয়নি। ফলে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রাজনৈতিক গুরুত্ব যতোটুকু হওয়ার কথা ছিলো সেটা আর হচ্ছে না। এখন এটা হয়ে গেছে কেবল বড় রাজনৈতিক দলগুলোর দখল রাজনীতির খেলার অংশ মাত্র। তারপরও নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনটার একটা বৈশিষ্ট্য আছে- এখানে মেয়র পদে যে দুজন মেয়র প্রার্থী তারা দলীয় প্রার্থী, আবার দলীয় প্রার্থী নন।
সেলিনা হায়াৎ আইভী আওয়ামী লীগের প্রার্থী, কিন্তু দলের প্রচারণা কর্মকাণ্ডের সময় তিনি প্রায় স্পষ্ট করেই বলেছেন যে, তিনি পুরো দলের সমর্থন পাচ্ছেন না, আবার পুরোপুরি দলের সমর্থনের উপর তিনি নির্ভরশীলও নন। তাঁর প্রচারটা ছিলো মূলত তাঁর ব্যক্তিগত প্রচার, দলের নীতির সমর্থনে তিনি ভোট দাবি করেননি সেইভাবে, ভোট দাবি করেছেন তাঁর নিজের দক্ষতা, আন্তরিকতা, সততা, ইত্যাদি দেখিয়ে। ওইদিকে তৈমুর ভাই আবার বিএনপির সিদ্ধান্তের বিপরীতে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন, দলের মার্কা পাননি উল্টো শাস্তি পেয়েছেন, কিন্তু তিনি যে বিএনপির প্রার্থী সেকথা তিনি ভোটারদের বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন। একটু আগে দেখলাম তিনি টেলিভিশনের লোকজনকে তাঁর সঙ্গে মঞ্চে বসা লোকজন দেখিয়ে বলছেন তারা সবাই নারায়ণগঞ্জে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সব পদে আছেন- অর্থাৎ নারায়ণগঞ্জের বিএনপি তাঁর সঙ্গেই আছে।
তৈমুর ভাইয়ের জন্য বিএনপির পরিচয়টা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ বটে। এই পরিচয় তাঁকে সকল আওয়ামী লীগ বিরোধী ও ক্ষমতাসীন শক্তির বিরোধী সকল ভোট নিজের পক্ষে টানতে সাহায্য করবে। একজন আমাকে একটা হিসাব বললেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে আইভী বিরোধী যারা আছে তারা যদি ভোটদানে বিরতও থাকে বা আইভীর পক্ষে সক্রিয় না হয় আর সরকারবিরোধী, বিএনপি সমর্থক, জামায়াত সমর্থক, সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো তারা যদি সকলে একসঙ্গে এক ক্যাম্পে ভোট দেয় তাহলেই নাকি তৈমুর ভাই জিতে যাবেন। তিনি আবার এটাও বললেন যে, যদি আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের পক্ষের ভোটার আর এন্টি আওয়ামী লীগ ভোটার এরকম একটা স্পষ্ট বিভাজন হয় তাহলে কী হয় সেটা স্পষ্ট করে বলা কঠিন। স্থানীয় কিছু ইস্যু আছে, সে কারণে সম্ভবত ওইরকম স্পষ্ট বিভাজন হবে না।
এখানে আরেকটা হিসাব অনেকেই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের পক্ষের যে ‘গুণ্ডা’ ধরনের এমপি ও তাদের একান্ত অনুগত লোকজন আছে তারা নাকি নির্বাচনে একটা বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। আমার অনুমান হচ্ছে তারা আসলে আওয়ামী লীগের ভোটের ক্যাম্পে খুব একটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। আওয়ামী লীগের লোকজনের যে কয়জন ওইরকম প্রবল প্রতাপের গুণ্ডাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে আইভীর বিপক্ষে যাবে বা নিষ্ক্রিয় থাকবে সেই ঘাটতি সম্ভবত আইভীর পক্ষে থাকা কিছু সংখ্যক সোশ্যাল ইন্টেলেকচুয়াল, সংস্কৃতি কর্মী আর সেক্যুলার লিবারেল নানান লোকজন মিলে পূরণ করে ফেলতে পারবে।
আমি কি নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইবো? না। চাইবো না। আমি যদি নারায়ণগঞ্জের ভোটার হতাম তাহলে কাকে ভোট দিতাম? আমি যদি নারায়ণগঞ্জে থাকতাম তাহলে সম্ভবত আমি ভোট কেন্দ্রেই যেতাম না। যেতাম না দুই কারণে। আমি মনে করি না যে নারায়ণগঞ্জে এই দুইজনের কোনো একজন মেয়র হলে নারায়ণগঞ্জের মানুষের জীবনের খুব একটা এদিক-সেদিক হবে। নারায়ণগঞ্জে যে মৌলবাদী শক্তি আর সন্ত্রাসীদের আখড়া হয়েছে সেটা? তৈমুর ভাই নির্বাচিত হলে কি তাদের শক্তি বাড়বে? আইভি নির্বাচিত হলে? আমার মনে হয় না। নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাস ও মৌলবাদের মূল ভরসার জায়গা অন্যটা- তাকে লোকে সন্ত্রাসের ‘গডফাদার’ হিসেবেই চেনে।
তবে তৈমুর আলম খন্দকার যদি নির্বাচিত হন তাহলে সেটা বিএনপির জন্য একটা মাইলেজ হতে পারে- তারা এটাকে সরকারের প্রতি মানুষের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখাতে পারে। কিন্তু বিএনপি এমনিতেই এখন রাজনীতিতে সাইডলাইনের বাইরের দল, এটুকু মাইলেজ নিয়ে তারা যে খুব একটা বড় কিছু ছিঁড়ে ফেলবে সেটা আমার মনে হয় না। প্রসঙ্গ যখন এসেছে, তখন একটা কথা বলে রাখি। বাংলাদেশের লুটেরা ধনিক গোষ্ঠী এখন আওয়ামী লীগ সরকারের উপর মোটা দাগে খুবই সন্তুষ্ট। তারা তাদের নিজেদের স্বার্থেই চাইবে যে আওয়ামী লীগ সরকার যেন চট করে সরে না যায়। এই লুটেরা ধনিক গোষ্ঠীর আনুকূল্য ছাড়া বিএনপির আসলে কোনো শক্তিই নেই। কেননা বিএনপি হচ্ছে তাদেরই দল। তাহলে জিনিসটা কী দাঁড়ালো? বিএনপি এখন খেলার মাঠের বাইরেই লাফালাফি করবে। লুটেরারা আওয়ামী লীগকেই খেলাবে আর আওয়ামী লীগও পূর্ণ আনুগত্য নিয়েই খেলবে। সেরকম প্রয়োজন না হলে লুটেরারা বিএনপিকে মাঠে নামাবে না। আর ভোট কি সুষ্ঠু হবে? দিনে হবে? নাকি রাতে হবে? সন্ত্রাস মারামারি হবে? সেগুলো আমি দেখতে চাই। এই হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে ১৬ জানুয়ারির ইলেকশন নিয়ে আমার পোস্ট। পোস্টটার উপসংহার তাহলে কী দাঁড়ালো? থাক, সেইটা আপনিই সিদ্ধান্ত নেন আপনার মতো করে, আমি আমার কথাটা সংক্ষেপে বললাম। কিমধিক মিতি। ইতি। ফেসবুক থেকে


সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]