• প্রচ্ছদ » » সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ কি কোনো প্রাণীকে আসামি ঘোষণা করতে পারে?


সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ কি কোনো প্রাণীকে আসামি ঘোষণা করতে পারে?

আমাদের নতুন সময় : 16/01/2022

খসরু চৌধুরী

আমার সাংবাদিক বন্ধু বিশুকে সঙ্গে করে দুলাহাজরা সাফারি পার্কে হাঁটছিলাম। খানিক ঘোরাঘুরির পর জঙ্গলের ধারে এক জায়গায় একটি জালে জড়ানো ছোট খাঁচায় দেখতে পেলাম একটি বিষণ্ন বানর করুণভাবে আমাদের দেখছে। খাঁচার পরিচয় লিপিতে লেখা আসামী বানর। বিশু আমার চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল মানুষ। বললো, বানরটি কী এমন করেছে যে একে পৃথক রেখে এভাবে শাস্তি দিতে হবে। সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ কি কোনো প্রাণীকে আসামী ঘোষণা করতে পারে? বাচ্চারা দেখলে তো ঢিল মারবে একে। আমারও মনে হলো তাই তো। ভালো করে দেখা দরকার এর স্বভাবটা কেমন। খাঁচার কাছে গেলে আক্রমণাত্মক হবে কি? কাছে গিয়ে দেখলাম বানরটি তেমনি ভাবলেশহীন। ভালো করে তাকিয়ে দেখি বানরটি রিসাস বানরের মতো দেখতে হলেও আকারে রিসাসদের চেয়ে বড় মনে হচ্ছে। রিসাসদের মতো এর পেছনের লোম গোলাপী নয়, আর মধ্যাঞ্চলের লোম ও ধূসর নয়। মুখখানাও বেশ বড় আর লম্বাটে। তখনই মাথায় এর পরিচয় এলো আর আমার প্রচণ্ড হাসি পেলো- হাসতে হাসতে আমার পেটে খিল ধরার যোগাড়। বিশু অবাক হয়ে ভাবছে, আমি কী পাগল হয়ে গেলাম। বিশুর মুখে বিপন্নতা দেখে আমার হাসি থামলো আর লজ্জাও পেলাম। বিশুকে বললাম, এটা কোনো আসামী নয়। এটা এক ভিন্ন জাতের বানর, যার চেহারায় আমাদের অতিপরিচিত রিসাস বাঁদরের মিল আছে। এই বানরদের সিলেটের বনাঞ্চল, ভারতের আসামসহ পূর্বভারতের অনেক অঞ্চলে দেখা যায়। ইংরেজিতে তাদের এসামিজ ম্যাকাক বলে- সে থেকে বাংলায় তাদের নাম হয়েছে আসামী বানর। অন্য বানরদের সঙ্গে এই দুর্লভ প্রাণীটি রাখা ঠিক হবে না বলে একে একা এক খাঁচায় রাখা হয়েছে। সম্ভবত সঙ্গী পেলে বড় খাঁচা বরাদ্দ পাবে। এবার বিশুর হাসার পালা। ফেসবুক থেকে


সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]