প্রকাশিত: Sat, Feb 11, 2023 12:31 AM
আপডেট: Sat, Jun 6, 2026 10:06 PM

চ্যাটজিপিটি জাতীয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স উদ্ভাবন কি আমার চাকরি খেয়ে দেবে?

গালিব ইবনে আনোয়ারুল আজিম : ঈযধঃএচঞ জাতীয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স উদ্ভাবন কি আমার চাকরি খেয়ে দেবে? এখন যে কাজে নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছি (উন্নয়নকর্মী ও গবেষক হিসেবে) তার কি বাজারে আর চাহিদা থাকবে এখনের মতো, দশ কিংবা বিশ বছর পর? উত্তরটা যেহেতু অনেকটা ফিউচার ফোরকাস্টিং, তাই বিভিন্ন সেক্টর আর একই সেক্টরের বিভিন্ন অংশে, দুনিয়ার একেক দেশের একেক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে তার উত্তর নিশ্চই ভিন্ন হবে!

জাতিসংঘের সহযোগী উন্নয়ন সংস্থার কর্মী হিসেবে ফরম্যাটেড লেখালেখি, দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যুরোক্রেসির অসংখ্য অপ্রয়োজনীয় টেমপ্লেইট নিয়ে অযথা সময় ব্যয় করা আমার দৈনন্দিন কাজের একটা অংশ। এইসব কাজ সময়ের সাথে সাথে সংগঠনের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন আরও কমিয়ে নিয়ে আসবে সন্দেহ নেই। আমাদের এডমিন, অপারেশন্স, ফিন্যান্স ইত্যাদি রুটিন কাজের একটা বড় অংশ প্রযুক্তি করে দেবে, সেখানে লোক কমিয়ে আনা হবে খরচ বাঁচাতে, এটা স্পষ্ট।

কিন্তু অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি ও বাস্তবায়নের বড় অংশই হলো প্রতিটি দেশের কনটেক্সট বোঝা, সেখানকার মানুষ, পলিসি ও পলিটিক্সের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ইন্টারভেনশন ডিজাইন। এখানে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে এতো বেশি বৈচিত্র্য ও পার্থক্য যে তাকে একই ছাঁচে ফেলা প্রায় অসম্ভব। যদিও আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে একই মডেল কমবেশি দুনিয়ার নানা প্রান্তে চাপিয়ে দিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে চাই, তবুও স্থানীয় প্রেক্ষিতে প্রচুর কাস্টমাইজেশন দরকার পড়ে। এই কাজ এআই খুব দ্রুত নিয়ে নিতে পারবে বলে মনে হয় না।

তবে ডেভেলপমেন্ট এইড ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার ল্যান্ডস্কেইপ দুই তিন দশকে বড় পরিসরে বদলে যেতে পারে, যদি গ্লোবাল পলিটিকাল অর্ডারে চীন, ভারত, রাশিয়া ইত্যাদি পাশ্চাত্যের শক্তিগুলোকে ছাপিয়ে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে। তবে সেটা রাজনীতি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নাই।

আরেকটা সেক্টরে যারা কাজ করেন তারা বোধহয় অনেকাংশে নিরাপদ। আমলাতন্ত্রে। উন্নয়নশীল বিশ্বে তো বটেই, উন্নত বিশ্বেও আমলাতন্ত্র যেকোনো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন প্রাইভেট সেক্টরের অনেক পরে এডাপ্ট করে। আর হাজার বছর ধরে আমলাতন্ত্র ছিল, আছে, থাকবেও। রাষ্ট্রের গঠন, ধরন, কাঠামো বদলাবে, সাথে আমলাতন্ত্রও, কিন্ত বেশ ধীরে। তার মাঝে এক প্রজন্মে নিরাপদ জীবন চাকরি করে মোটামুটি কাটিয়ে ফেলা যাবে। তাই ভাবছি ক্যারিয়ারের বাকি পথ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা কিংবা কোন দেশের আমলাতন্ত্র, এই দুই অঞ্চলের মাঝেই কাটাবো। ঝুঁকিপূর্ণ প্রাইভেট সেক্টরের দিকে এই কলিকালে গিয়ে কাজ নাই। ফেসবুক থেকে